সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল
স্পোর্টস মার্কেটিং

বৈশ্বিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা যেভাবে বৈশ্বিক বিপণনের মাঠ হিসেবে দাঁড়িয়েছে

  • আপলোড সময় : ১৬-০৫-২০২৬ ০৯:০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৫-২০২৬ ০৯:০৯:২০ পূর্বাহ্ন
বৈশ্বিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা যেভাবে বৈশ্বিক বিপণনের মাঠ হিসেবে দাঁড়িয়েছে
.মো. আব্দুল হামিদ::>
ট্রেনে যেতে সময় লাগত ঘণ্টাখানেক। তাই সময় পেলেই বন্ধুরা দলবেঁধে চলে যেতাম দর্শনীয় সব স্থান দেখতে। আন্তর্জাতিক কোনো ইভেন্ট থাকলে বিশেষ পরিকল্পনা করে আমরা সেগুলোতে অংশ নিতাম। সেক্ষেত্রে অনিবার্যভাবে একাধিকবার ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনায় যাওয়া হয়েছে। মার্কেটিংয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ‘নিষ্পাপ এক খেলা’ ফুটবলকে ঘিরে তারা যে কত রকমের ব্যবসা ফেঁদেছে—তা স্বভাবতই আমার নজর কাড়ে। বিশ্বের বহু মানুষ বার্সেলোনা শহরের নাম জানলেও তাদের রাজধানী শহর মাদ্রিদ সম্পর্কে খুব একটা জানে না। এমনটি হওয়ার কারণ, ১৯৯২ সালের অলি¤িপক গেমসের ভেন্যু হিসেবে বার্সেলোনার সাফল্য। সেই অ্যানালগ যুগেও ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ নগরী স্পোর্টস মার্কেটিংয়ের অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ঘটনাক্রমে সেই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের অন্যতম সদস্য প্রফেসর জাউমি আমাদের একটা কোর্স পড়িয়েছিলেন। ইভেন্ট মার্কেটিং-সংক্রান্ত সেই কোর্সের অংশ হিসেবে তিনি বার্সেলোনা অলি¤িপকের মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির নানা দিক আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। এখন প্রতি বছর ৩০ মিলিয়নের বেশি ট্যুরিস্ট বার্সেলোনা ভিজিট করে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নগর কর্তৃপক্ষ যে আয় করে তার সিংহভাগ আসে পর্যটন ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ইভেন্ট আয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট দ্রব্যাদি বিক্রি থেকে। বিশ্ব মেধাস¤পদ দিবস উপলক্ষে সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি আয়োজিত সেমিনারে উপস্থাপনের জন্য মূল প্রবন্ধ প্রস্তুত করতে গিয়ে ন্যু-ক্যাম্প ও বার্সা স্টোর ভিজিটের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ল। তাদের ক্লাবের লোগোসংবলিত (বাংলাদেশে তৈরি) সাধারণ একটা জার্সি ১৯৯ ইউরো, মগ ৯৯ ইউরো কিংবা কোটপিন ৪৯ ইউরোতে দেদার বিক্রি হচ্ছিল। স্যুভেনির আইটেম হিসেবে তাদের নিত্যনতুন পণ্য ওই তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করত। তাছাড়া তখনকার সেলিব্রেটি ফুটবলারদের অটোগ্রাফসহ টি-শার্ট বিক্রি হতো মোটামুটি আড়াই হাজার ইউরোতে (তখনকার ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায়)! এগুলো দেখে ভাবতাম, সাধারণ এক খেলাকে তারা কতই না দামি পণ্যে পরিণত করেছে!? এবারের মেধাস¤পদ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো: আইপি এন্ড স্পোর্টস : রেডি, সেট, ইনোভেট অর্থাৎ খেলাধুলা স¤পর্কিত বৈচিত্র্যময় পণ্যের উদ্ভাবন ও সেগুলোর রাইটস রক্ষায় সচেতনতা জরুরি। বিশ্বব্যাপী খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের মার্কেট সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলোর উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের পেছনে বিপুল পরিমাণ গবেষণা ব্যয় হয়। বিনিয়োগ থেকে মুনাফা পর্যন্ত যেতে বেশ খানিকটা সময় দরকার। কিন্তু অসদুপায় অবলম্বনকারীরা সহজেই কপি করে বা ডিজাইনে সামান্য পরিবর্তন এনে সেগুলো বাজারজাত করে। এতে সৃষ্টিশীলতা দারুণভাবে চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে। তাই বিনিয়োগকারীসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা ও ক্রীড়াপণ্য উদ্ভাবনে উৎসাহ দেয়াই এমন থিম নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। আমাদের শৈশবে ক্রীড়া ছিল নিষ্পাপ ও নিখরচা। বিশেষত আমাদের আদি খেলাগুলো ছিল প্রকৃতি বা মাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুলি, কানামাছি, বউচি, এক্কা-দোক্কা, সাতচাড়া, মোরগ লড়াই, মার্বেল, লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচের মতো খেলাগুলো হাতের নাগালে পাওয়া উপকরণ দিয়েই খেলা যেত। এমনকি আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডির জন্য আগের দিনে তেমন কিছু কিনতে হতো না। ক্রমেই সেই ধারায় পরিবর্তন আসতে থাকে। যেসব খেলায় অনেক বেশি উপকরণ কিনতে হয় সেগুলো জনপ্রিয় করার চেষ্টা লক্ষ করা যায়। ফলে শুধু একটা ফুটবল দিয়ে যে খেলা স¤পন্ন করা যেত এখন তাকে কেন্দ্র করে বিলিয়ন ডলারের মার্কেট সৃষ্টি হয়েছে। ক্রিকেট, রাগবি, হকি, বাস্কেটবল, বেজবল, লনটেনিস, গলফ, ভলিবল প্রভৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই তা বোঝা যাবে। সময় ও প্রযুক্তির পরিবর্তনে দীর্ঘকাল খেলার সঙ্গে লেপ্টে থাকা ‘ধুলা’ হারিয়ে গেছে। কৃত্রিম টার্ফ বা সুসজ্জিত মাঠে খেলার প্রচলন হলে অনেক বেশি ক্রীড়াসামগ্রী কেনার দরকার হয়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দিলখোলা পৃষ্ঠপোষকতা এ পালে জোর হাওয়া দেয়। ফলে ক্রমান্বয়ে নিজে খেলায় অংশ নেয়ার পরিবর্তে অন্যের খেলা দেখার প্রবণতা বাড়তে থাকে। আগের দিনের বিশ্বকাপ ফুটবল-ক্রিকেট আর হাল আমলের আইপিএল-বিপিএল তার বড় দৃষ্টান্ত। খেলাসংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষ মার্কেট সৃষ্টির পাশাপাশি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এ-সংশ্লিষ্ট জুয়া! সেগুলো যেমন অনলাইন ক্যাসিনো বা নানা অ্যাপের মাধ্যমে হচ্ছে। ঠিক তেমনিভাবে আমাদের চারপাশের (বিশেষত ক্ষুদ্র পেশায় নিয়োজিত) বহু মানুষ নিজেরা পরস্পর ‘বাজি’ ধরার মাধ্যমে জুয়ার বিস্তার ঘটাচ্ছে। তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা পর্যন্ত করছে! অন্যদিকে শিশু-কিশোরদের শারীরিক কসরতযুক্ত খেলাধুলা উদ্বেগজনক মাত্রায় কমেছে। এ সুযোগে অনলাইন বা অ্যাপস-নির্ভর হাজারো গেমসের উদ্ভব হয়েছে। ফ্রি-ফায়ার, পাবজি, জিওমেট্রি ড্যাশ, রোবলক্স, ক্যান্ডি ক্রাশ, পকিমন, সাবওয়ে সার্ফারসের মতো অসংখ্য গেমস শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের বিলিয়ন ডলারের বাজার সৃষ্টি হয়েছে। মাঠের খেলায় সময়সীমার ব্যাপার থাকে। কিন্তু অনলাইন এসব গেমসে ২৪/৭ খেলার সুযোগ থাকায় বিনিয়োগকারীরা এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছেন। আপাতদৃষ্টে এগুলোকে ‘ফ্রি’ মনে হলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে বিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ। আর সেই কারণেই এগুলোর বিস্তার হচ্ছে কল্পনার চেয়েও দ্রুতগতিতে। বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টগুলোর আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে স্পন্সরশিপ। আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের ক্ষেত্রে স্টেডিয়ামগুলোর নামকরণ থেকেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়। খ্যাতিমান ব্র্যান্ডগুলো নিজেদের নামে একেকটা স্টেডিয়ামের নামকরণের পেছনে কী বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে তা সহজেই অনুমেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান লিগগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আয় হয় সম্প্রচার স্বত্ব, ¯পন্সরশিপ ও সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড ব্যবহারের অনুমতি থেকে! তাই বছরব্যাপী খেলতে গিয়ে খেলোয়োড়রা ক্লান্ত হলেও তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে খেলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আইপিএলের মতো ইভেন্টে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। কারণ যত বেশি ম্যাচ, তত বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আয়ের সুযোগ। আসলে খেলোয়াড়-দর্শক সবাই নিজের অজান্তেই বাণিজ্যিক স্বার্থের এক ঘেরাটোপে বন্দি হয়ে পড়েছে। এমন বিপুল কর্মকা-ে ব্ল্যাকস্পট হয়ে উঠেছে অননুমোদিত সম্প্রচার, পেটেন্টের অপব্যবহার, হুবহু ডিজাইন বা লোগোর ব্যবহার। এমনকি রয়্যালটি না দিয়ে কিছুটা পরিবর্তিত ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট বা ইভেন্ট আয়োজন হচ্ছে। এতে মূল উদ্ভাবক বা আয়োজকদের স্বার্থহানি ঘটছে। বিশেষত আমাদের মতো দেশে এ-জাতীয় আইনের অনুপস্থিতি বা সহসা অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় অবাধে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘিত হয়। এখন প্রকৃত মালিকরা সেগুলো রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আর তেমন প্রেক্ষাপটেই এবারের বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবসে ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট কপিরাইট, ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট, ডিজাইন, ট্রেড সিক্রেটস এমনকি মোরাল রাইটস বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ক্রীড়া ও মেধাসম্পদ উভয়ের স্বার্থরক্ষায় জনসচেতনতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি - সেই বার্তাই ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে আমার ভিন্ন পর্যবেক্ষণ রয়েছে। যেমন একসময় খেলাধুলার উদ্ভব হয়েছিল মানুষের অবসর সময়কে আনন্দঘন করতে। তাতে অনিবার্যভাবে শারীরিক ও মানসিক কসরত হতো। ফলে কিশোর ও তরুণদের সুস্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়ার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু আমাদের দেশে ক্রমেই জনস¤পৃক্ত খেলাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আগের দিনে আবাহনী-মোহামেডানের খেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের মনে যে উদ্দীপনা জাগত, আজ তা কল্পনা করাও মুশকিল। কিংবা আঞ্চলিক পর্যায়ে যে টুর্নামেন্টগুলো হতো, বিভিন্ন ক্লাব বা স্থানীয় সংগঠন খেলাধুলার যে চর্চা করত তা তরুণ ও যুবসমাজের নানাভাবে কল্যাণ বয়ে আনত। তারা নির্মল বিনোদনের উপায় হিসেবে বিভিন্ন খেলাধুলার চর্চা অব্যাহত রাখত। কিন্তু সামান্য কারণে সংঘর্ষে জড়ানো, ক্লাবগুলো ঝিমিয়ে পড়া, আয়োজকদের মধ্যে ক্ষমতার রাজনীতির চর্চা প্রভৃতি কারণে আজকাল মাঠ পড়ে থাকলেও সেখানে খেলার লোক পাওয়া যায় না। এমন নন-প্রফিট আয়োজনে শ্রম দেয়ার মানসিকতাও অধিকাংশ মানুষের নেই বললেই চলে। ফলে অবধারিতভাবে শিশু-কিশোর-তরুণরা বদ্ধঘরের ক্ষুদ্র স্ক্রিনে আটকে যাচ্ছে। তারা শারীরিক ও মানসিক কসরত করছে না। বরং সারা দিন অনলাইন-অফলাইন নানা খেলায় ব্যস্ত থাকছে। এতে বড় কো¤পানিগুলোর স্বার্থরক্ষা হলেও আমাদের নতুন প্রজন্মের বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে। বহু ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনীতিকদের হাতিয়ার হিসেবে তারা ব্যবহৃত হচ্ছে। তার প্রভাবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গ্যাং কালচার বাড়ছে। করপোরেট কালচারের প্রভাবে সবকিছু বড় ও প্রভাবশালী ব্র্যান্ডগুলোর হাতে চলে যাওয়া আমাদের বড় ক্ষতির কারণ হচ্ছে। স্থানীয় ও ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো ক্রমে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। কিন্তু আমাদের তরুণ ও যুবকদের রক্ষায় মাঠের খেলাধুলায় ফেরা দরকার। এক্ষেত্রে সরকার বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রতি ‘নতুন কুঁড়ি ¯েপার্টস’ আয়োজন একটি ভালো উদ্যোগ। তবে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং বিস্তৃতভাবে বছরব্যাপী খেলাধুলার চর্চা বাড়ানো দরকার। সেক্ষেত্রে একদিকে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ অন্যদিকে নীতিগত সাপোর্ট প্রয়োজন। দেশে বিকেএসপির মতো অসংখ্য ক্রীড়াশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা জরুরি। সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্লাব বা সমিতির মাধ্যমে সুস্থ বিনোদনকে উৎসাহ দেয়া দরকার। পরিশেষে বলব, শিশুরা ক্রীড়াবিমুখ হওয়ায় শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। শৈশবে গেমসের আসক্তি থেকে বড় হওয়ার পর জুয়ার আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে। সুস্থ বিনোদনের অনুপস্থিতিতে তাদের নানা মানসিক বিকৃতি বাড়ছে। ফলে আমাদের সবার স্বার্থে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানো জরুরি। আর সেক্ষেত্রে মেধাস¤পদ সুরক্ষিত থাকলে নতুন পণ্যের উদ্ভাবন ও বিকাশ গতিশীল হবে। আর এ কর্মকা- এককভাবে করার চেয়ে সামষ্টিকভাবে করলে সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত হবে। তাই ক্রীড়া উন্নয়নে আমাদের সবারই অবস্থান হওয়া উচিত...রেডি, সেট, ইনোভেট।

[ড. মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) অতিরিক্ত পরিচালক]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স